সম্প্রতি 'এমভি হন্ডিয়াস' নামক একটি প্রমোদতরি থেকে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটলেও, এটি বড় মহামারির রূপ নেওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। মঙ্গলবার (১২ মে) স্পেনের মাদ্রিদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
নতুন আক্রান্তের সম্ভাবনা
তবে ভাইরাসের দীর্ঘ ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তাবস্থার কারণে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু নতুন আক্রান্তের খবর আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধারকৃত যাত্রীদের সর্বশেষ দলটি জাহাজ ত্যাগ করার পর সংস্থাটি এই মন্তব্য করল। এমভি হন্ডিয়াস জাহাজটি বর্তমানে স্পেন থেকে নেদারল্যান্ডসের রোটারডাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করছে। এর আগে ২ মে এবং তার পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় জাহাজটি থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সাতজন হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন ডাচ নাগরিক, একজন জার্মান নারী এবং অপর একজন নারী দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংক্রমণের আশঙ্কায় নেদারল্যান্ডসের নিজমেগেন শহরের একটি হাসপাতালের ১২ জন কর্মীকে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষার সময় সঠিক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করায় সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য দেশে সংক্রমণ
এছাড়া ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়া কয়েকজন যাত্রীর শরীরেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্যারিসে একজন আক্রান্ত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তার সংস্পর্শে আসা ২২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভাইরাসের প্রকৃতি ও উপসর্গ
সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে হান্টাভাইরাস ছড়ালেও, দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া 'আন্দিজ স্ট্রেন' বা প্রজাতিটি মানুষের মাধ্যমে ছড়াতে পারে বলে ধারণা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জ্বরের পাশাপাশি প্রচণ্ড ক্লান্তি, পেশিব্যথা, পেটব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট এই রোগের প্রধান উপসর্গ। ডব্লিউএইচও কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন যে ব্যাপক আকারে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি খুবই কম।
জাহাজের বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে এমভি হন্ডিয়াস জাহাজটিতে কেবল ২৫ জন ক্রু এবং দুইজন চিকিৎসাকর্মী অবস্থান করছেন। জাহাজটি আগামী ১৭ মে রোটারডামে পৌঁছালে সেটিকে পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করা হবে। ইউক্রেন ও ফিলিপাইনের নাগরিকসহ অন্যান্য ক্রু সদস্যরা জাহাজটি গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করছেন এবং বন্দরে পৌঁছানোর পর তারাও নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন।
গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজটিতে ২৩টি দেশের মোট ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। সংস্থাটির প্রধান গেব্রেয়াসুস জোর দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



