পরকীয়া সন্দেহে মেধাবী ছাত্র হত্যা, পিবিআইয়ের জালে ৩ আসামি
পরকীয়া সন্দেহে মেধাবী ছাত্র হত্যা, পিবিআইয়ের জালে ৩ আসামি

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মেধাবী ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত হত্যার দীর্ঘ ৯ মাস পর রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের সন্দেহে আরাফাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। রোববার (১০ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনা

পিবিআই জানায়, মূল আসামি আজিম হোসাইন সন্দেহ করতেন যে তার স্ত্রী নুসরাত জাহান মীমের সঙ্গে আরাফাতের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এই সন্দেহের জেরে বন্ধু ফয়সালের সঙ্গে মিলে আরাফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আজিম। গত বছরের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় ওষুধ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হলে আরাফাতকে কৌশলে অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্ত ও গ্রেপ্তার

২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ডিএনডি লেক থেকে আরাফাতের মরদেহ উদ্ধারের পর মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরা থেকে আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে শনির আখড়া থেকে ফয়সাল এবং রূপগঞ্জ থেকে মীমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আজিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং বাকি দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের পরিচয় ও পরিবারের শোক

নিহত আরাফাত শহরের চাষাঢ়া এলাকার সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর একমাত্র ছেলে। ও-লেভেলে জিপিএ-৫ পেয়ে সে এ-লেভেলে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা আফরিন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে নিরপরাধ ছিল, তাকে অন্যায়ভাবে খুন করা হয়েছে। আমি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে আসার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগের প্রতি কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অধিকতর তদন্ত এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।