ভারতের বিহারের মুজাফফরপুর জেলায় অবস্থিত প্রসাদ হাসপাতালের পঞ্চম তলার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত চারজন রোগী মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত থাকলেও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ করেই আইসিইউতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকল বাহিনীর কর্মকর্তা রাম নিবাস পান্ডে জানান, তারা আইসিইউ থেকে ১৫ থেকে ২০ জন রোগীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি রোগীদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনও কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তদন্ত
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শর্ট সার্কিটের কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। মুজাফফরপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত কুমার সেন জানান, আইসিইউতে প্রায় ১৩ জন রোগী ছিলেন এবং আরও কয়েকজন সিসিইউতে ভর্তি ছিলেন। তিনি বলেন, 'ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগরের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের একদিন পর। সেখানে ২১ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। ওই হোটেলের বেজমেন্টে বুধবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগে। হোটেলটির নাম মিকাসা ইন। হাউজ রানি এলাকার সরু গলির মধ্যে অবস্থিত এই হোটেলের বেজমেন্টে একটি রেস্তোরাঁ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি কক্ষ রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যাদের অধিকাংশই চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা বিদেশি নাগরিক।
বাংলাদেশিদের অবস্থা
দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, ওই হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন ম্যাক্স হাসপাতালে এবং বাকি দুজন সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিহারের এই হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আইসিইউতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।



