সুদানের তিন বছরের গৃহযুদ্ধে আট হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের অনেককে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে অচিহ্নিত গণকবরে দাফন করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এই তথ্য জানিয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে পরিবারের হাহাকার
সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর মধ্যে সংঘর্ষে দেশটি বিধ্বস্ত। লড়াই, বাস্তুচ্যুতি এবং গ্রেপ্তারের মধ্যে নিখোঁজ হওয়া প্রিয়জনদের সন্ধানে পরিবারগুলি এখনও হন্যে হয়ে ঘুরছে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ফাহমি আল-ফাতেহ। তিনি ৩৮ বছর বয়সী একজন কৃষক ও ব্যবসায়ী। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। খার্তুমের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে ফেরার পথে এক বছরেরও বেশি আগে তিনি নিখোঁজ হন।
তার স্ত্রী আজাহের আবদুল্লাহ জানান, তিনি হাসপাতাল, মর্গ এবং সামরিক ক্যাম্পে খোঁজ করেও তার ভাগ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য পাননি। তিনি বলেন, “যদি কিছু জানতে পারতাম, তাহলে আরও শান্তি পেতাম। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, তা না জানার চেয়ে কিছু জানা ভালো।”
গণকবর ও অচিহ্নিত লাশ
আইসিআরসি জানিয়েছে, খার্তুম রাজ্যের অনেক নিখোঁজ ব্যক্তিকে অস্থায়ী কবরে দাফন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তীব্র লড়াইয়ের সময় নিয়মিত কবরস্থানে পৌঁছানো খুব বিপজ্জনক ছিল বলে এই কবর তৈরি করা হয়েছিল।
গত মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা খার্তুমে গিয়ে ফুটবল মাঠে, রাস্তার পাশে এবং পরিত্যক্ত ভবনের কাছে কবরস্থান দেখেছেন। অনেক কবরই অচিহ্নিত রয়েছে।
খার্তুম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্থায়ী কবর থেকে প্রায় ৩০ হাজার মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও হাজার হাজার মরদেহ শহরের বিভিন্ন স্থানে চাপা পড়ে আছে। পুনরুদ্ধার করা মরদেহের প্রায় ১০ শতাংশ এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
ফরেনসিক উদ্যোগ ও মানসিক ট্রমা
ফরেনসিক কর্মকর্তারা অজ্ঞাত মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করছেন। ভবিষ্যতে পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবারগুলি তাদের আত্মীয়দের শনাক্ত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে নিখোঁজ প্রিয়জনদের অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক আঘাতের কারণ হয়। আইসিআরসির মনোবিজ্ঞানী নাথালি নিয়ামুকেবা বলেন, “নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো শত্রুতা, বাস্তুচ্যুতি এবং অস্পষ্ট ক্ষতির কারণে আরও বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়।”
অনেক পরিবার বিপদ সত্ত্বেও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। সুলাফা মুস্তাফা দুই বছর ধরে তার ছেলে সুলেমান আবদালসিদের খুঁজছেন। খার্তুমের কাছে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন। তিনি বলেন, “তোমাকে খুঁজে পাওয়ার আশা হারাইনি।”
অন্যরা যারা আত্মীয়দের খুঁজে পেয়েছেন, তারা লড়াইয়ের সময় বাড়ির কাছে তড়িঘড়ি করে দাফন করা মরদেহ সঠিকভাবে পুনরুদ্ধার ও পুনরায় দাফনের বেদনাদায়ক কাজের মুখোমুখি হচ্ছেন। আবুবকর আলসোয়াই তার ভাইয়ের মরদেহ পাবলিক কবরস্থানে সরিয়ে নেওয়ার পর বলেন, “যা ঘটেছে তা আমার হৃদয়ে দাগ কেটে গেছে।”



