এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যালিয়ন (এপিবিএন-১৩) শনিবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডোপ গ্যাংয়ের মূলহোতা মো. তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার বিবরণ
এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন তার চাচাতো ভাইকে বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে গিয়েছিলেন। ডিপারচার এলাকায় বিদায় শেষে তাজুল ইসলাম তাকে কফি খাওয়ান। কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
অভিযান ও উদ্ধার
ঘটনার পর এপিবিএন-১৩-এর সহকারী পুলিশ সুপার ফৌজুল কবির মঈনের নেতৃত্বে একটি দল মিরপুরের দারুস সালাম এলাকায় 'হোটেল রয়্যাল'-এ অভিযান চালায়। অভিযানে পুলিশ বিভিন্ন মডেলের ৫৫টি মোবাইল ফোন, ১০ জোড়া ইয়ারবাড, ১৫টি হাতঘড়ি, চারটি নিদ্রাকারক বড়ি, দুই প্যাকেট নিদ্রাকারক পদার্থ, নগদ ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, ৫৩.৫০ সৌদি রিয়াল, একটি তুর্কি লিরা এবং অন্যান্য চুরি করা জিনিসপত্র উদ্ধার করে।
মামলা ও জবানবন্দি
রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল স্বীকার করেন যে তার গ্যাং বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে তাদের চা, কফি বা কোমল পানীয়তে নিদ্রাকারক ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে জিনিসপত্র চুরি করত। তিনি আরও স্বীকার করেন যে গ্যাং সদস্যরা সন্দেহ এড়াতে কখনও কখনও শারীরিক প্রতিবন্ধী বা অসুস্থ ব্যক্তির ভান করত।
গ্যাংয়ের কার্যক্রম
তার জবানবন্দির ভিত্তিতে তদন্তকারীরা মনে করছেন যে তিনি চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন, যারা মিরপুরের দারুস সালাম এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলে চুরি করা জিনিসপত্র মজুত করত।
পুলিশের বক্তব্য
এপিবিএন-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) অনিতা রানী সুত্রধর বলেন, বিমানবন্দরে ডোপ গ্যাং, পাচার ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।



