ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ কঠোর, ভিপিএন ও মেসেজিং অ্যাপে নিষেধাজ্ঞা
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার সরকার দেশটিতে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পর্যায়ক্রমে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হচ্ছে, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ও ভিপিএন সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং ডিজিটাল যোগাযোগে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব ও ব্যবহারকারীদের সমস্যা
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ সপ্তাহগুলোতে রাজধানী মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে প্রতিদিনই মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকছে। দেশটিতে অবস্থানরত কূটনীতিক ও বার্তা সংস্থার প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, এই ইন্টারনেট বন্ধের ফলে অফিস কর্মীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তরুণদের বারবার ভিপিএন পরিবর্তন করতে হচ্ছে এবং অনলাইন নেভিগেশন না থাকায় ট্যাক্সিচালকরাও সমস্যায় পড়ছেন।
সরকারের পদক্ষেপ ও কারণ
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এসব পদক্ষেপ আংশিকভাবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর রুশ আইন মানতে অনীহা এবং আংশিকভাবে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নেওয়া হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম ও ওয়ার্টসঅ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। একই সঙ্গে শত শত ভিপিএন সেবা ব্লক করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে।
নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পেছনের লক্ষ্য
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মস্কোর এই পদক্ষেপের পেছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা ও যুদ্ধকালীন সময়ে জনসমর্থন ধরে রাখা—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বা শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হলেও সম্ভাব্য ভিন্নমত দমন করতে এই সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে ক্রেমলিন।
নতুন আইন ও নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের নির্দেশে মোবাইল অপারেটরদের ব্যবহারকারীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া, গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হচ্ছে।
ভিপিএন সেবা ব্লকের পরিসংখ্যান
চলতি বছরের শুরুতেই রাশিয়ায় ৪০০টিরও বেশি ভিপিএন সেবা ব্লক করা হয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই পদক্ষেপগুলো সরকারের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার দিকে ইঙ্গিত করছে, বিশেষ করে যুদ্ধের প্রেক্ষিতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



