যুক্তরাজ্যে দক্ষ অভিবাসীদের বড় অংশ দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন: জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ১০ হাজারের বেশি দক্ষ আন্তর্জাতিক পেশাজীবীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতিতে ভূতাপেক্ষ পরিবর্তনের ইঙ্গিতের কারণে দেশটিতে কর্মরত দক্ষ জনশক্তির বড় অংশই যুক্তরাজ্য ছাড়ার কথা ভাবছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ‘স্কিল মাইগ্রেন্টস অ্যালায়েন্স লিমিটেড’ (এসএমএএল) প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ১০ হাজার ১৮৭ জনের মধ্যে ৬২ শতাংশ জানিয়েছেন—স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বা ১৫ বছর করা হলে তারা যুক্তরাজ্য ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। সম্ভাব্যদের হিসাব মিলিয়ে এই ঝুঁকি দাঁড়িয়েছে ৯৩ শতাংশে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ বৃদ্ধি
প্রস্তাবিত নীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও। বিশেষ করে ‘স্কিলড ওয়ার্কার’ ভিসায় সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যাওয়া নতুন অভিবাসীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার সেখানে বসবাস, সন্তানদের উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও নীতিগত পরিবর্তনের আশঙ্কায় সেগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ মূল ভিসা আবেদনকারী জানিয়েছেন, নতুন নীতি কার্যকর হলে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৫ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, তারা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় আছেন।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা
এদিকে সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে। জরিপ অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতের ৯৪ শতাংশ কর্মী যুক্তরাজ্য ছাড়ার কথা ভাবছেন। বর্তমানে এই খাতে এক লাখ ৩১ হাজারের বেশি শূন্যপদ রয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইটি ও প্রকৌশল খাতের প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী বিকল্প হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির মতো দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও এসএমএএলের দাবি
অভিবাসন বিষয়ক আসন্ন ‘হোয়াইট পেপার’-এ সরকার তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে পারে। তবে এসএমএএল দাবি জানিয়েছে, নতুন কোনো নীতি যেন পুরনো কর্মীদের ওপর প্রযোজ্য না করা হয়। সংগঠনটির মতে, এই দক্ষ কর্মীরা শুধু শূন্যপদ পূরণ করছেন না, বরং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দিয়ে যুক্তরাজ্যের জনসেবা খাত সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সরকার যদি ‘৫ বছরের প্রতিশ্রুতি’ থেকে সরে আসে, তবে তা দেশটির শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।



