বুশরা বিবির সাজা স্থগিতের আবেদন: চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদ হাইকোর্টে জমা
বুশরা বিবির সাজা স্থগিতের আবেদন, চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে

বুশরা বিবির সাজা স্থগিতের আবেদন: চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদ হাইকোর্টে জমা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে তার সাজা স্থগিতের আবেদন করেছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বুশরা বিবির এই আবেদনটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে বলে জানা গেছে।

চোখের অস্ত্রোপচার ও গোপনীয়তার অভিযোগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে বুশরা বিবির চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ তাকে আল-শিফা আই হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে রেটিনা বিশেষজ্ঞ ড. নাদিম কুরেশি তার সার্জারি সম্পন্ন করেন। এক রাত হাসপাতালে কাটানোর পর তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুশরা বিবির আইনজীবী সালমান সাফদার আবেদনে অভিযোগ করেছেন যে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে করা হয়েছে। পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীদের কোনো প্রকার পরামর্শ ছাড়াই এই অস্ত্রোপচার করা হয়, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে, যথাযথ চিকিৎসা না পেলে তার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতে উত্থাপিত দাবিসমূহ

আদালতে পেশ করা আবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে:

  • আল-শিফা হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান এবং জেল সুপারকে সার্জারির পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড এবং ডায়াগনসিস রিপোর্টসহ আদালতে তলব করার অনুরোধ
  • অস্ত্রোপচার পরবর্তী সঠিক যত্নের জন্য তাকে কারাগারে না রেখে আবারও আল-শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি
  • কারাগারে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের নিয়মিত এবং নিরবচ্ছিন্ন সাক্ষাতের অনুমতি

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুশরা বিবি দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দী রয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আগামী শুনানির তারিখ ও পটভূমি

আগামী ২২ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সরদার সরফরাজ ডোগারের নেতৃত্বাধীন ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ইমরান খান ও বুশরা বিবির সাজা স্থগিতের বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই শুনানিতে আদালত আবেদনটির উপর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় বুশরা বিবি সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মামলাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ইমরান খান পরিবারের আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বুশরা বিবির চিকিৎসা সুবিধা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছেন।