ইরানের কঠোর হুমকি: হরমুজ প্রণালি বন্ধের সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিতে তাদের নৌ-অবরোধ জারি রাখে, তবে ইরান বিষয়টিকে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এই কৌশলগত নৌপথটি পুনরায় বন্ধ করে দেবে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এই গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশ করেছে।
যুদ্ধবিরতি ও শর্তাবলির পটভূমি
সূত্রটি জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অধীনে ইরান প্রাথমিকভাবে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত বন্ধ না হওয়ায় ইরান সেই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। এখন লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিলেও তিনটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরালো করে তেহরান। অন্যদিকে, গত শনি ও রবিবার ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার ঘোষণা করেছিলেন যে, লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ ‘পুরোপুরি বহাল’ থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পরই তেহরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হলো।
চলমান যুদ্ধবিরতি ও শঙ্কা
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এই সংকটের সমাধান না হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ইরানের এই হুমকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে কাজ করছে যে, তারা তাদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।



