আর্টেমিস-২ অভিযানের নভোচারীরা প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেছেন
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের চার নভোচারী শনিবার সকালে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেছেন। এটি গত পাঁচ দশকের বেশি সময় পর প্রথম চাঁদের চারপাশে মানুষের ঘুরে আসার ঐতিহাসিক যাত্রা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পুনঃপ্রবেশের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও উদ্বেগ
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় অল্প সময়ের জন্য হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে নভোচারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, যা উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে পরে অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ামাত্রই নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বস্তি ফিরে আসে। ওয়াইজম্যান নিশ্চিত করেন, 'হিউস্টন, যোগাযোগ ঠিক আছে। আমরা আপনাদের স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছি।'
মহাকাশযানের গতি ও তাপমাত্রার চরম অবস্থা
পুনঃপ্রবেশের সময় মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার গতিতে চলছিল, যা শব্দের গতির ৩০ গুণের বেশি। তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় অর্ধেক। প্রায় ছয় মিনিট ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময় সবকিছু নির্ভর করছিল তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।
অভিযানের রেকর্ড ও বৈচিত্র্যময় দল
এই অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা হলেন:
- রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার)
- ক্রিস্টিনা কোচ (প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসা)
- ভিক্টর গ্লোভার (প্রথম অশ্বেতাঙ্গ হিসেবে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসা)
- জেরেমি হ্যানসেন (প্রথম অমার্কিন হিসেবে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসা)
এটি ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের অ্যাপোলো অভিযানগুলোর বিপরীতে একটি বৈচিত্র্যময় দল গঠনের উদাহরণ।
২০২২ সালের আর্টেমিস-১ অভিযানের শিক্ষা
২০২২ সালে আর্টেমিস-১ অভিযানের সময় তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থায় ক্ষয় দেখা দিয়েছিল, যা এবারের অভিযানে ঝুঁকি কমাতে পুনঃপ্রবেশের জন্য অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত পথ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও তাৎপর্য
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে চাঁদে একটি বেজ স্থাপনসহ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করা। নভোচারীরা মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন, ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ অভিযানের চেয়েও দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছেন।



