মার্চ মাসে বাংলাদেশের আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সমাহার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতোই, সন্ধ্যার আকাশ প্রতিনিয়ত নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়। এবার মার্চ মাসে বাংলাদেশের আকাশে বিরল গ্রহসমাবেশ থেকে শুরু করে রক্তিম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের মতো একাধিক মহাজাগতিক ঘটনা দেখা যাবে। ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই আকাশীয় প্রদর্শনী, যা মহাকাশপ্রেমীদের জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা বয়ে আনবে।
গ্রহসমাবেশ ও গ্রহের অবস্থান
ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া ছয়টি গ্রহের সমান্তরাল অবস্থান মার্চের প্রথম সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে। সূর্যাস্তের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর পশ্চিম দিগন্তের খুব কাছে তিন গ্রহ বুধ, শুক্র ও শনি দেখা যাবে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুধ ও শনি সূর্যের খুব কাছে চলে আসায় এদের দেখা কঠিন হয়ে পড়বে। ৭ মার্চের পর শনিকে আর সন্ধ্যার আকাশে দেখা যাবে না। বৃহস্পতি গ্রহ পুরো মাস জুড়েই সন্ধ্যার আকাশে রাজত্ব করবে, যা দর্শকদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃশ্য উপহার দেবে।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ও ব্লাড মুন
মার্চ মাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘটনা হচ্ছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। ৩ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ ওঠার পর ঢাকার আকাশে আংশিক ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের কিছু অংশ দেখা যাবে। পূর্ণগ্রাসের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কারণে চাঁদের গায়ে সূর্যের লাল আলো প্রতিফলিত হয়ে এটি তামাটে বা লালচে বর্ণ ধারণ করবে, যা ব্লাড মুন নামে পরিচিত। এই দৃশ্য আকাশপ্রেমীদের জন্য একটি অনবদ্য মুহূর্ত তৈরি করবে।
চাঁদ ও নক্ষত্রের মিলন
আজ সোমবার সিংহ রাশির উজ্জ্বলতম নক্ষত্র রেগুলাসের খুব কাছ দিয়ে যাবে চাঁদ। টেলিস্কোপ থাকলে এই দৃশ্য অত্যন্ত পরিষ্কার দেখা যাবে। ৬ মার্চ মধ্যরাতের দিকে চাঁদ এবং কন্যারাশির উজ্জ্বল নক্ষত্র স্পাইকার কাছাকাছি অবস্থান করবে। ১০ মার্চ চাঁদ বৃশ্চিক রাশির লাল নক্ষত্র অ্যান্টারেসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সেটিকে সাময়িকভাবে ঢেকে দেবে, যা একটি বিরল ঘটনা।
শুক্র ও শনির যুগলবন্দি
৭ ও ৮ মার্চ সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে এক চমৎকার দৃশ্য দেখা যাবে। উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ ও অপেক্ষাকৃত অনুজ্জ্বল শনি গ্রহ একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের ৪৫ মিনিট পর পশ্চিম দিগন্তের খুব নিচে তাকালে এই যুগলকে দেখা যাবে, যা আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হবে।
উল্কাবৃষ্টি ও অন্যান্য ঘটনা
১২ মার্চ প্রতি ঘণ্টায় ২টি উল্কা দেখা যেতে পারে, যা আকাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে। ১৪ মার্চ গামা-নরমিড উল্কাবৃষ্টি হবে, যা দক্ষিণ আকাশ থেকে দেখা যাবে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬টি উল্কা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দর্শকদের জন্য একটি উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। ১১ মার্চ চাঁদের শেষ চতুর্থাংশ অবস্থা দেখা যাবে, এবং এ সময়ের পর থেকে চাঁদ মধ্যরাতের পর উঠবে।
এই সমস্ত মহাজাগতিক ঘটনা বাংলাদেশের আকাশকে একটি জীবন্ত প্রদর্শনীতে পরিণত করবে। মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ, যারা টেলিস্কোপ বা খালি চোখে এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। সূত্র: অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম, দ্য স্কাই লাইভ, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।



