আর্টেমিস ২ মিশনের ১২ হাজারের বেশি ছবি প্রকাশ করেছে নাসা
আর্টেমিস ২ মিশনের ১২ হাজারের বেশি ছবি প্রকাশ

আর্টেমিস ২ মিশন চার নভোচারীর জন্য হয়তো একটি ওয়ার্ক ট্রিপ ছিল, কিন্তু একই সঙ্গে এটি ছিল তাঁদের জীবনের অন্যতম সেরা এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণ। পৃথিবীর মানুষদের সঙ্গে নিজেদের এই অভাবনীয় অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার জন্য নাসা সম্প্রতি নভোচারীদের তোলা ছবির প্রথম কিস্তি প্রকাশ করেছে। চাঁদের পথে আবার মানুষের এই যাত্রার অসাধারণ সব দৃশ্য এখন সবার জন্য উন্মুক্ত।

গত ১ এপ্রিল আর্টেমিস ২ মিশন যাত্রা শুরু করে। ৬ এপ্রিল এটি চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায় এবং ১০ এপ্রিল সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে। ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক মিশনে নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন হাজার হাজার ছবি তুলেছেন। তবে মহাকাশে থাকাকালীন নাসা কেবল মিশন-সংশ্লিষ্ট জরুরি যোগাযোগের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিল। তাই তখন আমরা কালেভদ্রে দু-একটি ছবি দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম।

ছবি প্রকাশের পেছনের গল্প

নভোচারীরা তাঁদের ক্যামেরার মেমোরি কার্ডভর্তি ছবি নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণের পর থেকেই নাসার কর্মীরা ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের প্ল্যানেটারি সায়েন্টিস্ট এবং আর্টেমিস ২ মিশনের লুনার সায়েন্স লিড কেলসি ইয়াং গত মাসে সায়েন্টিফিক আমেরিকান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘জনসন স্পেস সেন্টারের দলকে রীতিমতো হারকিউলিসের মতো অমানবিক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এত বিপুল ডেটা মিশন ডেটা ইনফ্রাস্ট্রাকচারে যুক্ত করা এবং সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে সবার সামনে আনার কাজটা মোটেও সহজ নয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোথায় এবং কীভাবে দেখবেন ছবিগুলো

এত পরিশ্রমের পর অবশেষে নাসার গেটওয়ে টু অ্যাস্ট্রোনট ফটোগ্রাফি অব আর্থ (Gateway to Astronaut Photography of Earth) ওয়েবসাইটে ১২ হাজার ২১৭টি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের মূল সার্চ অপশনে এখনো আর্টেমিস ২ মিশন যুক্ত না হলেও, নাসার এই ওয়েবসাইটে (https://eol.jsc.nasa.gov) গিয়ে পুরো কালেকশনটি দেখা যাচ্ছে। তবে একসঙ্গে অনেক হাই-রেজোলিউশনের ছবি থাকায় ওয়েবসাইটটি লোড হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

ওয়েবসাইটে গিয়ে ছবিগুলো খোঁজার পদ্ধতি বেশ সহজ। আপনি চাইলে ওয়েবসাইটের ‘Search Photos’ অপশনে ক্লিক করে ‘Search Using Other Methods’-এ যাবেন। সেখানে নির্দিষ্ট কোড বসিয়ে সহজেই ছবি খুঁজতে পারবেন। যেমন, মিশন বক্সে ART002 লিখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, সার্চ করলে সব সময় যে ফলাফল দেখাবে, তা কিন্তু নয়। সার্চ করা অংশ ওই ওয়েবসাইটে থাকলেই শুধু ছবি দেখতে পারবেন।

তবুও এই বিষয়টা ভালোই জটিল। তাই ধাপে ধাপে দেখিয়ে দিচ্ছি, আসলেই কীভাবে আপনি এই ছবিগুলো দেখতে পারবেন। প্রথমে https://eol.jsc.nasa.gov লিংকে ঢুকলে নিচের ছবির মতো একটা সাইট ওপেন হবে। এখানে দেখুন শুরুতে ‘সার্চ ফটো’ লেখা আছে। লাল দাগ দিয়ে তা দেখানো হয়েছে। এরপর আপনি ওই ‘সার্চ ফটো’ ক্লিক করবেন। সঙ্গে সঙ্গে নিচের ছবির মতো একটি উইন্ডো খুলে যাবে। সেখানে আপনি এই ধরনের একটা সাইটে ঢুকবেন। কিন্তু আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে ‘Search Using Other Methods’। এটি পাবেন আরও নিচে। স্ক্রল করে নিচে নামতে থাকলে নিচের ছবির মতো অংশ দেখতে পাবেন। এখানে বক্সের মধ্যে যে লাল দাগ দেখা যাচ্ছে, সেখানে ART002 লিখতে হবে। তারপর রান কোয়েরি (Run Query) লেখার ওপর ক্লিক করলেই নিচের ছবির মতো আরেকটা উইন্ডো খুলে যাবে। বাঁ পাশে যে নামগুলো দেখছেন, ওগুলোই নাসার আপলোড করা ছবি। এর কোনো একটার ওপর ক্লিক করলেই আপনি নিচের ছবির মতো আরেকটা উইন্ডোতে চলে যাবেন। ব্যস, ছবি পেয়ে গেলেন! এখন আপনি ওপরের ≥ চিহ্নের ওপর ক্লিক করলেই পরের ছবিগুলো দেখতে পারবেন। নিচে ডাউনলোড করার অপশনও আছে। চাইলে কিছু ছবি ডাউনলোড করেও রাখতে পারেন। যদিও এসব ছবিতে ম্যাপ লোকেশন, ইমেজ ডিটেইলস বা ক্যামেরা ইনফরমেশন সেভাবে নেই। ভবিষ্যতে এগুলো যোগ করাও হতে পারে।

তবে বর্তমানে আপলোড করা ছবিগুলো পুরো মিশনের সব ছবি নয়। কারণ, ছবির কোডগুলো ART002-E-168 থেকে ART002-E-30001 পর্যন্ত দেওয়া আছে। এর মানে হলো, ভবিষ্যতে হয়তো আরও প্রায় ১৮ হাজার ছবি এই ওয়েবসাইটে আসতে পারে!

ভবিষ্যত গবেষণার অমূল্য রত্নভান্ডার

আর্টেমিস ২ মিশনের লুনার সায়েন্স টিমের কাছে মিশন শেষ হওয়ার পর থেকে ছয় মাস, অর্থাৎ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রয়েছে তাদের প্রাথমিক বিজ্ঞান ও পরিচালনা প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য। সেই সঙ্গে সব চাঁদের ছবিসহ সম্পূর্ণ ডেটাসেটও প্রকাশ করা হবে। এই ছবিগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য হবে নাসার প্ল্যানেটারি ডেটা সিস্টেম, যেখানে গ্রহবিজ্ঞান সম্পর্কিত নাসার সব মিশনের ডেটা সংরক্ষিত থাকে। চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নভোচারীদের রেকর্ড করা অডিও এবং গবেষকদের সুবিধার্থে সায়েন্স টিমের তৈরি করা একটি ইউজার গাইডও শেষ পর্যন্ত সেখানে পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞানীদের শীর্ষ ১০ অগ্রাধিকার

প্রায় ৬০ জনের এই সায়েন্স টিম মিশনের ছবিগুলো নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সাধারণ ফটোগ্রাফারদের মতো নভোচারীদের তোলা কিছু ছবিও ঝাপসা বা ফোকাসের বাইরে ছিল। সায়েন্স টিমের প্রথম কাজই ছিল সেগুলো বাছাই করা। এরপর প্রতিটি ছবিতে চাঁদের কোন কোন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে, তা চিহ্নিত করা। তবে কেলসি ইয়াংয়ের মতে, গবেষকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের চেয়ে মিশনের শীর্ষ ১০টি অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে ছবিগুলো বিশ্লেষণ করা।

বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক এই ফলাফলগুলোর জন্য হয়তো আমাদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে এর মধ্যেই অবাক করা সুন্দর অনেক ছবি দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই আর দেরি না করে নাসা ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনিও খুঁজে নিতে পারেন আপনার সবচেয়ে প্রিয় চাঁদের ছবিটি!

সূত্র: নাসা ও স্পেস ডটকম