মার্কিন নৌ-অবরোধে ইরানি বন্দর, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি
মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানি বন্দরগুলোয় নৌ-অবরোধ কার্যকর করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শনিবার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে শুরু হওয়া যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নির্দেশে জাহাজ আটক ও মাইন ধ্বংস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে, ইরানকে অর্থ প্রদানকারী জাহাজ আটকাতে এবং হরমুজ প্রণালির মাইন ধ্বংস করতে বলা হয়েছে। এই প্রণালি বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত, এবং এখানে সামরিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
ওমানের মুসান্দাম সীমান্তের কাছাকাছি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তর রাস আল-খাইমাহ থেকে তোলা একটি ছবিতে হরমুজ প্রণালির কাছে ট্যাংকার চলাচলের দৃশ্য ধরা পড়েছে, যা ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখের। এই দৃশ্য অঞ্চলের চলমান উত্তেজনার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান
আইন বিশেষজ্ঞরা মার্কিন এই নৌ-অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করছেন। তারা দাবি করছেন যে, এই ধরনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য অবরোধে সরাসরি অংশ না নিলেও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা সমর্থন করেছে, যা এই ইস্যুতে তাদের দ্ব্যর্থহীন অবস্থান নির্দেশ করে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে জটিলতা বৃদ্ধি করছে এবং বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।



