ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য তুরস্ক হতে পারে: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর ইসরায়েল তাদের কৌশলগত মনোযোগ পরিবর্তন করে তুরস্ককে পরবর্তী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিত্রায়িত করতে পারে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান নীতি ক্রমবর্ধমানভাবে বাইরের শত্রু চিহ্নিত করার ওপর নির্ভর করছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
নতুন শত্রু হিসেবে তুরস্কের সম্ভাব্য মনোনয়ন
সোমবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ইরানের পর ইসরায়েল তুরস্ককে নতুন শত্রু হিসেবে মনোনীত করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত শত্রু ছাড়া ইসরায়েল নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না। এটি এই অঞ্চলে ইসরায়েলের বিবর্তনীয় অবস্থানের বিষয়ে আঙ্কারার একটি মূল্যায়ন বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা কাঠামোর আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য ফিদান একটি আনুষ্ঠানিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি নিরাপত্তা চুক্তির আহ্বান জানান, যা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন।
লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে সতর্কতা
ফিদান বলেন, লেবাননে ইসরায়েল এমনভাবে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে যা গাজা হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি সেখানে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ব্যাপক চিত্র তুলে ধরে একে একটি ‘জনশূন্য করার অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেন। সিরিয়ার বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন, উল্লেখ করেন যে সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা তুরস্কের জন্য একটি গুরুতর ঝুঁকি এবং বড় ধরনের সমস্যা। তিনি মনে করেন, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকায় ইসরায়েল সিরিয়ার বিষয়ে কিছুটা সংযম দেখাচ্ছে, তবে এটি চিরস্থায়ী নাও হতে পারে।
বর্তমান কূটনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমান কূটনীতি প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক মনে হচ্ছে। তবে বাইরের কোনও শক্তি এই অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি সাবধান করেন। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ উপায়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন ফিদান। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, সশস্ত্র হস্তক্ষেপ সেখানে বড় ধরনের ঝুঁকি বয়ে আনবে। তবে বিশ্বব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন নৌ-চলাচলের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ফিদান জানান, ২০২৬ সালের ৭-৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনটি জোটের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন হতে পারে। এটি ন্যাটো-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও সুসংগঠিত করার একটি বড় সুযোগ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



