ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার বৈঠকে ট্রাম্পকে বারবার ফোন করেছিলেন ভ্যান্স
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা ফলহীনভাবে শেষ হয়েছে। এই বৈঠকের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অন্তত ডজনখানেকবার ফোন করেছিলেন। গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিরতি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা সমাপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স।
ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ
এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছিলাম। গত ২১ ঘণ্টায় ঠিক কতবার কথা হয়েছে তা সঠিকভাবে জানি না—হয়তো অর্ধডজন বা এক ডজনবার।’ তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রতিনিধি দলটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ট্রাম্প ছাড়াও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে।
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য আলোচনা
ভ্যান্সের মতে, প্রতিনিধি দলটি অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জাতীয় নিরাপত্তা দলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় যোগাযোগে ছিলাম, কারণ আমরা সৎভাবে আলোচনা করছিলাম। আমরা এখান থেকে একটি চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব নিয়ে ফিরছি।’
পারমাণবিক অস্ত্রই মূল বিরোধ
কেন আলোচনা ভেঙে গেল সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানালেও ভ্যান্স স্পষ্ট করেন যে মূল বিরোধের বিষয় ছিল পারমাণবিক অস্ত্র। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সক্ষমতাও অর্জন করবে না, যা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সহায়তা করবে।’ ভ্যান্স এটিকে ট্রাম্পের ‘মূল লক্ষ্য’ বলে উল্লেখ করে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে এই প্রতিশ্রুতি চাইলেও এখনো তা পায়নি, তবে ভবিষ্যতে পাওয়ার আশা রয়েছে।
ইরানের পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে, ইরান এই অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবিকে দায়ী করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ‘ইরানের প্রতিনিধি দল ২১ ঘণ্টা ধরে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নিবিড়ভাবে আলোচনা করেছে। কিন্তু মার্কিন পক্ষের অযৌক্তিক দাবির কারণে কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং আলোচনা শেষ হয়ে যায়।’ এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতের আলোচনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



