ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন মেজর জেনারেল রোমান গফম্যান
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে মেজর জেনারেল রোমান গফম্যানকে বিশ্বখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরবর্তী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ২ জুন বর্তমান পরিচালক ডেভিড বার্নিয়ার মেয়াদ শেষ হলে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন গফম্যান, যিনি কোনো গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা ছাড়াই এই পদে আসছেন।
নেতানিয়াহুর মনোনয়ন ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন
গত ডিসেম্বর মাসে নেতানিয়াহু মোসাদ প্রধানের জন্য গফম্যানকে মনোনীত করেছিলেন এবং রোববার সরকারিভাবে তাঁর এই নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৬ সালে বেলারুশে জন্মগ্রহণকারী গফম্যান ১৪ বছর বয়সে ইসরায়েলে অভিবাসী হিসেবে আসেন এবং ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরে যোগ দিয়ে দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
হামাসের হামলায় আহত ও নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে যোগদান
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় গফম্যান ইসরায়েলের ন্যাশনাল ইনফ্যান্ট্রি ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই দিন গাজা সীমান্তের কাছে দক্ষিণ ইসরায়েলের সেদরত শহরে হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে যোগ দেন এবং তাঁকে নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয়
রোমান গফম্যান প্রথাগত ধর্মপ্রাণ ইহুদিদের মতো মাথায় টুপি (ইয়ামুকা) পরেন না, তবে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি বসতিতে অবস্থিত ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘এলি ইয়েশিভা’য় পড়াশোনা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি কট্টর ডানপন্থী ধর্মীয় জায়নবাদী আদর্শের জন্য সুপরিচিত, যা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
মোসাদের ভূমিকা ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পদত্যাগ
বিশ্বের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় থেকে রক্ষা পেয়েছে, কারণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কার্যক্রম পরিচালনা ঐতিহাসিকভাবে মোসাদের দায়িত্বের আওতার বাইরে। তবে এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতিমধ্যে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমানের প্রধানেরা পদত্যাগ করেছেন, যা দেশের গোয়েন্দা কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গফম্যানের নিয়োগ ইসরায়েলের গোয়েন্দা নীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, বিশেষত নেতানিয়াহুর আদর্শের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং সামরিক পটভূমি বিবেচনায় নিয়ে। আগামী বছরগুলোতে মোসাদের কার্যক্রম ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা কেমন হবে, তা এখন সবার কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



