ইরানে বিদেশে অবস্থানরত ১০০+ ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত, অভিনেতা-ক্রীড়াবিদ-সাংবাদিকরা আক্রান্ত
তেহরান প্রসিকিউটর অফিস একটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যেখানে বিদেশে অবস্থানরত ১০০ জনেরও বেশি হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের পেছনে মূল অভিযোগ হলো ‘বিদেশের শত্রুদের সমর্থন করা’।
তালিকায় কারা রয়েছেন?
প্রভাবশালী এই তালিকায় নামি-দামি অভিনয়শিল্পী, ক্রীড়াবিদ এবং সাংবাদিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে, ইরান ইন্টারন্যাশনাল এবং মানোতো নিউজ চ্যানেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই খড়্গের শিকার হয়েছেন। তেহরান প্রশাসনের দাবি, এই সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের গোপন যোগসূত্র রয়েছে, যা ইরানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টার অংশ।
সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর নজর
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর ৬৩ জন ব্যবস্থাপক ও কর্মী এবং ‘মানোতো’ টিভি চ্যানেলের ২৫ জন কর্মী রয়েছেন। এছাড়া, বিদেশে বসবাসরত আরও ২৫ জন ইরানি নাগরিককে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি সংবাদমাধ্যমকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার দায়ে অভিযুক্ত করে আসছে।
অভিযোগ ও সরকারের অবস্থান
ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, এই ব্যক্তিরা সাইবার স্পেস বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন উপায়ে শত্রুপক্ষকে সমর্থন ও সহযোগিতা করে আসছিলেন। তারা বিদেশের মাটিতে অবস্থান করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে, তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ব্যাংক লেনদেনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
যদিও প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘শত্রুর আক্রমণকে সমর্থন’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অভিযুক্ত কোনো পক্ষ বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্তটি সেই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



