ইরানে চীনের ড্রোন ভূপাতিত: নেপথ্যে সৌদি আরব নাকি সংযুক্ত আরব আমিরাত?
ইরানে চীনের ড্রোন ভূপাতিত, সৌদি-আমিরাত সন্দেহ

ইরানে চীনের ড্রোন ভূপাতিত: নেপথ্যে সৌদি আরব নাকি সংযুক্ত আরব আমিরাত?

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ এলাকায় একটি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। তবে ড্রোনটির পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম রহস্য। এটি কি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কোনো ড্রোন, নাকি প্রতিবেশী কোনো আরব দেশের—তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ড্রোনের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি

ইরানের গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, তাদের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কিন্তু ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষকরা ধ্বংসাবশেষের ছবি পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, এটি আসলে চীনের তৈরি ‘উইং লুং-২’ ড্রোন। পরবর্তীতে তেহরান টাইমসও এই তথ্য সমর্থন করেছে।

সৌদি আরব ও আমিরাতের সম্ভাব্য ভূমিকা

নিরাপত্তা বিশ্লেষক নিকোল গ্রাজিউস্কির মতে, ইরানের কাছে নিজস্ব ড্রোন থাকলেও উইং লুং মডেলের কোনো ড্রোন নেই। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলও চীনা ড্রোন ব্যবহার করে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবাহিনীতে এই ড্রোনটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ফলে সন্দেহ করা হচ্ছে, প্রতিবেশী কোনো দেশ থেকে এটি ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল কি না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধি

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে ইরান ও আরব দেশগুলোর সম্পর্ক এক জটিল মোড় নিয়েছে। আমিরাত বর্তমানে ইরানের ওপর হার্ডলাইন বা আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে। এমনকি তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের জোর লবিং করছে। অপরদিকে, রিয়াদ সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব আমেরিকাকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু ‘মর্যাদাহানিকর’ মন্তব্য সৌদি রাজপরিবারকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধের সম্ভাবনা

যদি প্রমাণিত হয় যে ড্রোনটি সৌদি বা আমিরাতের ছিল, তবে তা যুদ্ধের দাবানলকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনিতেই গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রাখায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে আকাশসীমায় বিদেশি ড্রোনের অনুপ্রবেশ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।