কুয়েতে সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১ মে একটি মাছ ধরার নৌকায় করে ওই দলটি বুবিয়ান দ্বীপে প্রবেশের চেষ্টা করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আইআরজিসির সদস্য বলে স্বীকার করেছে।
আটকদের পরিচয় ও স্বীকারোক্তি
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আটক চারজনের মধ্যে নৌবাহিনীর দুই কর্নেল, একজন ক্যাপ্টেন ও একজন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রয়েছেন। তারা স্বীকার করেছেন যে, ইরানের আদর্শিক সামরিক বাহিনী তাদেরকে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে অনুপ্রবেশের দায়িত্ব দিয়েছিল।
ইরানের অস্বীকৃতি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, নৌ-নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে চার কর্মকর্তা ভুলবশত কুয়েতের জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নৌকাটি 'কুয়েতের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য ভাড়া করা হয়েছিল।' দ্বীপে কুয়েতি বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির সময় একজন কুয়েতি সেনাসদস্য আহত হন এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের দুই সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ তুতুঞ্জিকে তলব করে একটি প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করেছে। এতে বলা হয়, 'রেভল্যুশনারি গার্ডের একটি সশস্ত্র দলের বুবিয়ান দ্বীপে অনুপ্রবেশ ও কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার' ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কুয়েত এ ঘটনাকে 'শত্রুতামূলক কাজ' ও দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর 'স্পষ্ট আক্রমণ' হিসেবে উল্লেখ করে আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুয়েতের বিরুদ্ধে এ ঘটনাকে 'রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলকভাবে ব্যবহার করার' অভিযোগ তুলেছে। তারা আটক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুত দূতাবাসের যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বুবিয়ান দ্বীপ কুয়েতের সবচেয়ে বড় দ্বীপ, যা ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত।



