ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে অপসারণ, স্থলাভিষিক্ত টোপ ব্লাচে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পাম বন্ডিকে অপসারণ করেছেন। সিএনএনের একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বন্ডির স্থানে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টোপ ব্লাচে দায়িত্ব নেবেন বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প সরাসরি বন্ডির অপসারণের কথা না জানালেও, অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ব্লাচে কাজ করবেন বলে নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও বন্ডির প্রশংসা
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “পাম বন্ডি বেসরকারি খাতে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নতুন কাজে যোগ দিতে যাচ্ছেন।” তিনি বন্ডিকে একজন মহান আমেরিকান দেশপ্রেমিক এবং বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি গত এক বছরে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্প আরও যোগ করেছেন যে বন্ডি দেশে অপরাধ দমনে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছেন, যার ফলে হত্যাকাণ্ডের হার ১৯০০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে, কেন বন্ডি পদ ছাড়ছেন সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনও নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি।
অপসারণের পেছনের কারণসমূহ
সূত্রগুলো জানায়, একাধিক বিষয়ে বন্ডির ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:
- জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ।
- এই নথিপত্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিচারের আওতায় না আনা।
গত মাসে ট্রাম্প ক্রিস্টি নোয়েমকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন, এবার বন্ডিকেও অপসারণ করলেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প তার মিত্রদের সঙ্গে বন্ডিকে বরখাস্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং বুধবার তিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ডির সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেন। একটি সূত্র এই কথোপকথনটিকে ‘কঠিন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কথোপকথনে ট্রাম্প বন্ডিকে ইঙ্গিত দেন যে তিনি আর বেশিদিন নিজের পদে থাকবেন না এবং শিগগিরই তাকে প্রতিস্থাপন করা হবে।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও প্রতিক্রিয়া
সূত্রগুলো আরও জানায়, বন্ডিকে বলা হয়েছিল পরে তাকে অন্য একটি দায়িত্ব দেওয়া হবে। দু’জন ব্যক্তি ইঙ্গিত দেন যে ট্রাম্প বিচার বিভাগ থেকে তার বিদায়ের পর তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলেছিলেন। তবে, সেই সম্ভাবনাটি পরে আর এগোয়নি বলে মনে হয়, কারণ ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি সম্পূর্ণভাবে সরকার ছেড়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও মন্তব্য করেনি।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ডি ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি বিচার বিভাগে সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিতিয়া জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন। তবে, বিচারক রায় দেন যে প্রসিকিউটর অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন—এ কারণে উভয় মামলাই খারিজ হয়ে যায়। এই ঘটনাগুলো বন্ডির অপসারণের পেছনে অতিরিক্ত প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



