মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে 'ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে' রয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, ইরানের নেতারাই তাকে এই বার্তা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কীভাবে এই বার্তা তার কাছে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।
ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব ও যুদ্ধবিরতি
দুই মাসের সংঘাত শেষে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধ মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে আগ্রহী ছিলেন এবং এ বিষয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বৈঠক
চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা সৌদি আরবে বৈঠকে বসেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হামলার মাত্রা কিছুটা কমলেও পুনরায় সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ইরানের কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ায় তা ভেঙে পড়ে। সাম্প্রতিক সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা থাকলেও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল হওয়ায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি ইসলামাবাদ, ওমান ও রাশিয়া সফর করেছেন। মস্কোতে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমর্থনের আশ্বাস পেয়েছেন। এই সফরগুলো ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, যা ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে দেশটির শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরে।



