আন্তর্জাতিক একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। লেবানন সংকট গভীর হওয়ার কারণে দুই দেশের চলমান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে জুনের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
চাপের উভয় পক্ষ
ইতালির রোমের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর আন্দ্রেয়া দেসি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এই মুহূর্তে সব পক্ষ থেকেই চাপ বাড়ছে। তবে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর তুলনামূলক বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে। দেসি সতর্ক করে জানান, চলতি জুন মাসের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম চরম মাত্রায় আকাশচুম্বী হতে পারে। যদি এমনটা ঘটে, তবে তা ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত নেতিবাচক ও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের লক্ষণ
মার্কিন প্রশাসনের ওপর তৈরি হওয়া এই চাপের স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট লক্ষণ ইতোমধ্যেই দেখা গেছে। ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবে বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে অভ্যন্তরীণ চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তেহরানের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপকে তেহরান নিজেদের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা বা কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষক দেসি তেহরানের এই মনোভাবকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক ব্যাখ্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, তেহরান বিষয়টিকে যেভাবে ইতিবাচক ভাবছে পরিস্থিতি আসলে তেমন নয়। কারণ, দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের জেরে যেকোনো মুহূর্তে একটি নতুন সংঘাত বা যুদ্ধের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি, বরং তা স্পষ্টভাবেই দিগন্তে উঁকি দিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।



