ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননের বৈরুতের ওপর হামলা হলে তেহরান নীরব থাকবে না। বুধবার লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৈরুতের ওপর যেকোনো হামলা পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে এবং ফের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে।
ইরানের অবস্থান
আরাঘচি আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধ তখনই শেষ হবে, যখন লেবাননে হামলা বন্ধ হবে। তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননকে যুক্ত করতে হবে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে বলেও জানান তিনি। মার্চের শুরু থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি
এদিন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয় ইসরায়েল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে দেশ দুটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’তে পৌঁছায়। এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে।
পাইলট জোন
এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এসব এলাকা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না। তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হিজবুল্লাহ বহুবার বলেছে যে, তারা ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, খুব সম্ভবত, ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে।



