ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নয়াদিল্লির এক আলোচনায় তিনি বলেন, পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সহায়তা ও অপতৎপরতা বন্ধ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশটি ‘মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসে হারিয়ে যাবে’—এ সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।
পাকিস্তানের কড়া প্রতিক্রিয়া
রোববার (১৮ মে) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। আইএসপিআর দাবি করে, পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হুমকির পরিণতি
আইএসপিআর সতর্ক করে বলে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি বা আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলে তার পরিণতি শুধু সীমান্তের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। তারা এই মন্তব্যকে ‘উগ্র জাতীয়তাবাদী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করে।
ভারতের অবস্থান
জেনারেল দ্বিবেদী আরও মন্তব্য করেন, গত বছরের একটি সামরিক পরিস্থিতির মতো ঘটনা আবার ঘটলে ভারতের সেনাবাহিনী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্যের পরদিনই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
পাকিস্তান আরও অভিযোগ করে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপপ্রচারের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দুই দেশের শীর্ষ সামরিক বক্তব্য ঘিরে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



