পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের বুলডোজার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এবার দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ায় মিতালী সংঘের খেলার মাঠে অবৈধভাবে নির্মিত ওয়াচ টাওয়ারটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ারটি মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্থানীয় কাউন্সিলর সঞ্জীব দাস নির্মাণ করেছিলেন। কলকাতা হাইকোর্ট এ ভবন ভাঙার নির্দেশ দিলেও আগের সরকার তা ভাঙেনি। সরকার বদলের পরই বুলডোজার চালিয়ে টাওয়ারটি ভেঙে ফেলা হয়।
বুলডোজার সংস্কৃতির শুরু
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাজ্যে উত্তর প্রদেশের ধাঁচে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ চালু করা হবে। নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন। প্রথমে কলকাতার উপকণ্ঠে তপশিয়া-তিলজলা অঞ্চলে একটি অবৈধ চামড়ার কারখানা ভেঙে দেওয়া হয়। সেখানে আগুন লেগে দুজনের মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাসনাবাদে অবৈধ ভবন ভাঙা
বসিরহাটের হাসনাবাদের তালপুকুর এলাকায় তৃণমূল নেতা সাদ্দাম হোসেনের অবৈধ ভবনটি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। সাদ্দাম হোসেন স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন ঘরামির জায়গা দখল করে বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। আগের সরকারে পুলিশ তৃণমূল নেতার হুমকিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বিজেপি সরকার আসার পরই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।
হাওড়া স্টেশনে উচ্ছেদ
গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে হাওড়া স্টেশনের কাছে সব অবৈধ দোকান বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করে প্রশাসন। রাতেই মাইকে দোকান মালিকদের সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। এরপর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুলডোজার চালিয়ে উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করেন।
সিপিএমের সভায় আলোচনা
কলকাতায় শনিবার থেকে শুরু হওয়া সিপিএমের রাজ্য কমিটির সভায় নেতারা বলেছেন, ধর্মকর্ম এড়িয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা যাবে না। সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মাচরণ এক নয় বলে মন্তব্য করেন তারা। সিপিএমের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মারিয়ান আলেকজান্ডার বেবি (এম এ বেবি) বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মাচরণের মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক। দলকে তা বুঝতে হবে। সভায় নেতারা পূজা কমিটি, মন্দির কমিটি, মসজিদ কমিটি ও গির্জা কমিটিতে দলের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন।
উত্তরবঙ্গের সড়ক কেন্দ্রের হাতে
উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডর) দিয়ে যাওয়া সাতটি জাতীয় সড়কের দায়িত্ব রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এ সড়কগুলো কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি উঠলেও রাজ্য সরকার সায় দেয়নি। এবার উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়কগুলো নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাজুড়ে অবস্থিত। এক বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকার সড়কগুলোর দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিতে চাইলে মমতা আপত্তি জানিয়েছিলেন।



