ইসরায়েলি বাহিনী বুধবার দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শান্তি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও এই হামলা চালানো হলো।
হামলার বিবরণ
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়ে আল-ফাওকা এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী শহর কেফার তেবনিতের পূর্ব প্রান্তে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, জাহরানি এলাকার আনসারিয়েহ শহরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে এনএনএ জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও সহিংসতা
সোমবার মার্কিন-ইরান চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে লেবাননে সহিংসতা কমেছে। তবে এনএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির পরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। সহিংসতা হ্রাস পাওয়ায় দক্ষিণ লেবাননের কিছু বাসিন্দা ফিরে এসে তাদের শহর ও গ্রাম পরিদর্শন করছেন। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী স্থানীয়দের ফিরে আসতে বিলম্ব করার আহ্বান জানিয়েছে, 'ইসরায়েলি লঙ্ঘন ও হামলার ঝুঁকি' উল্লেখ করে।
হিজবুল্লাহ ও ইরানের ভূমিকা
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ মার্চের শুরুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালিয়ে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে টেনে আনে। তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালায়। ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার বলেছেন, 'এই যুদ্ধে ইসরায়েল দখল করা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে' সংঘাতের সমাপ্তি অসম্পূর্ণ থাকবে। তিনি আরও বলেন, 'এখন থেকে জায়নবাদী শাসনের লেবাননে কোনো সামরিক হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ডের অব্যাহত দখল আমাদের দৃষ্টিতে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে।'
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমবার বলেছেন, তার দেশের বাহিনী 'যতক্ষণ প্রয়োজন' লেবাননে থাকবে।
হিজবুল্লাহর নীরবতা
মঙ্গলবার থেকে হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে কোনো বিবৃতি দেয়নি। গোষ্ঠীটির নেতা নাইম কাসেম বুধবার টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার ইরানের প্রচেষ্টার জন্য 'গভীর কৃতজ্ঞতা' প্রকাশ করে বলেন, 'ইরান ইসরায়েলি সত্তাকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।'
হতাহতের সংখ্যা
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩,৮২৬ করেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মৃতদেহ উদ্ধার করছেন।



