ইরানের সামরিক সক্ষমতা: যুদ্ধের চার মাস পর কী অবস্থা?
ইরানের সামরিক সক্ষমতা: যুদ্ধের চার মাস পর কী অবস্থা?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ-প্রতিরক্ষাশিল্প খাতের ৮৫ শতাংশের বেশি ধ্বংস হয়েছে। তবে দেশটির ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ অক্ষত রয়েছে এবং পুনর্গঠন দ্রুত এগোচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকে এ পর্যন্ত মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

দোহায় আলোচনা ও ইসরায়েলের বিরোধিতা

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এ আলোচনা শুরু হয়। ইসরায়েল এ আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সাংবাদিকদের বলেন, 'ইতিমধ্যে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখন ফাইটার জেট মোতায়েনের আদেশের অপেক্ষায় আছে।' তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না কিংবা ইরান যদি ইসরায়েলে হামলা করে, তাহলে আবার তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ হুমকির জবাবে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, 'আমাদের জনগণ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষয়ক্ষতি

৪০ দিনের কম সময়ের তীব্র হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় ১০ হাজার ৮০০টি হামলা চালিয়ে প্রায় ৪ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, ইরানের ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র ও প্রায় ২৫০টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার গত মে মাসে হাউস কমিটি অন আর্মড সার্ভিসেসের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ-প্রতিরক্ষাশিল্প খাতের ৮৫ শতাংশের বেশি ধ্বংস হয়েছে। সেন্টকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ১৫৫টির বেশি নৌযান ধ্বংস হয়েছে।

অক্ষত সামরিক সক্ষমতা ও পুনর্গঠন

সরকারি কর্মকর্তা, মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মাটির নিচের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মে মাসে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত প্রায় সব কটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবারও সচল করা হয়েছে। সেখানকার মাটির নিচের প্রায় ৯০ শতাংশ স্থাপনা পূর্ণাঙ্গ বা আংশিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

মে মাসের শেষের দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ইরানের সামরিক বাহিনী অনুমানের চেয়ে অনেক দ্রুত নিজেদের পুনর্গঠিত করছে এবং কিছু কিছু কারখানায় ড্রোনের উৎপাদন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চারের মজুত এখনো অক্ষত রয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ এপ্রিলের মাঝামাঝি জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে তাঁদের ড্রোন উৎপাদন ১০ গুণ বেড়েছে।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের সম্ভাবনা

চলমান সংঘাতের কোনো নির্ভরযোগ্য সমাধান না এলে সব পক্ষই আবারও যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। ইরানের বিমানবাহিনীর কমান্ডাররা নতুন সামরিক বিমান কেনার জন্য ইতিমধ্যে রুশ ও চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।