ওমান উপসাগরের কাছে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সেনাদের হামলার ঘটনায় পাল্টা প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। রবিবার (১৯ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন হামলা ও আইআরজিসি'র প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওমান উপসাগরের জলসীমায় মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীকে 'সন্ত্রাসী' হিসেবে অভিহিত করে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে আইআরজিসি নৌবাহিনীর দ্রুত উপস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ফলে মার্কিন সেনারা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে। এই ঘটনাটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ-চলাচল পথ
একই দিনে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি টিভি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে 'লারাক করিডোর' নামে একটি নতুন নৌ-চলাচল পথ খুলেছে আইআরজিসি। এই রুটটি হরমুজ দ্বীপের দক্ষিণ দিক থেকে লারাক দ্বীপের দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পর কেবল আইআরজিসি'র অনুমতি নিয়েই জাহাজগুলো এই পথ ব্যবহার করতে পারবে, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়।
যুদ্ধবিরতি ও নৌ-অবরোধের দ্বন্দ্ব
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য 'সম্পূর্ণ উন্মুক্ত' থাকবে। কিন্তু শনিবার ইরানের প্রধান সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স ঘোষণা করে, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত নৌ-অবরোধের কারণে তারা আবারও এই প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
পটভূমি ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ শক্ত করে তেহরান। সম্প্রতি ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা এই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।



