বাগেরহাট জেলা প্রশাসন হযরত খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন পুকুরে থাকা একমাত্র কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় ২২ বছর আগে এই পুকুরে কুমিরটি আনা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রাণঘাতী ঘটনার পর জরুরি সভা
কুমিরটির কারণে দুইটি প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটার পর এবং ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও সভার সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে। মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল মঙ্গলবার বাগেরহাটে আসবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে এবং স্থানান্তরের পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করতে।
দুই প্রাণঘাতী ঘটনা
সোমবার মাজার পুকুরে গোসল করতে গিয়ে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হন। কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায় এবং পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৮ এপ্রিল কুমিরটি পুকুরে একটি কুকুরকেও আক্রমণ করে হত্যা করে। এই ঘটনাগুলো স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।
ঐতিহাসিক পুকুর ও কুমিরের ইতিহাস
খান জাহান আলীর মাজারের ঐতিহাসিক পুকুরটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মিঠাপানির কুমিরের সাথে জড়িত। স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, সন্তটি পুকুর খননের পর এতে এক জোড়া কুমির ছেড়ে দিয়েছিলেন যাতে লোকেরা পুকুরের পানি দূষিত না করে। তাদের বংশধররা প্রায় ৬০০ বছর ধরে পুকুরে বসবাস করত বলে জানা যায়।
মূল কুমিরের বংশ বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০০৪ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ভারতের মাদ্রাজ কুমির ব্যাংক থেকে ছয়টি কুমির আনে এবং চারটি পুকুরে ছেড়ে দেয়। পরে তিনটি মারা যায়, শুধু একটি কুমির বেঁচে থাকে।
একাকী কুমিরের বিচরণ
অবশিষ্ট কুমিরটি প্রায়ই আশপাশের আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াত। সাথীর সন্ধানে এটি প্রায় ৯০ বার স্থানীয় পুকুরে প্রবেশ করেছিল বলে জানা যায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে মাজারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মাজারের তত্ত্বাবধায়ক ফকির জামাল হোসেন জানান, কুমিরটি বছরের পর বছর একা বসবাস করছিল এবং অনেক দর্শনার্থী কুমির দেখা তাদের মাজার ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করতেন। তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মৃত্যুর ঘটনাগুলো এর স্থানান্তরকে প্রয়োজনীয় করে তুলেছে, যদিও কুমিরের অনুপস্থিতি কিছু দর্শনার্থীকে হতাশ করতে পারে।



