যুদ্ধবিরতি শেষের পথে ইরানের অস্ত্র পুনর্গঠন
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইরান তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার পুনর্গঠন শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) তথ্য অনুযায়ী, রেভল্যুশনারি গার্ডের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়ে তারা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন লঞ্চারগুলো মেরামত করেছেন।
সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য
মুসাভি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মগুলো হালনাগাদ ও পুনরায় পূর্ণ করার গতি আমাদের এখন আরও বেশি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এ সময় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দুই মিনিটের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিওটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মোবাইল লঞ্চারগুলো দেখানো হয়। এই ভিডিওতে ইরানের সামরিক প্রযুক্তির উন্নতি এবং অস্ত্র ভাণ্ডারের আধুনিকায়নের দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি
উল্লেখ্য, প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তারা অভিযোগ করে যে, ইরান তাদের অস্ত্র ভাণ্ডার ব্যবহার করে আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তবে ইরানের সামরিক কর্মকর্তার এই দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতির সময়ে তারা তাদের সামরিক শক্তি পুনরুদ্ধারে সক্রিয় ছিল।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: এপি



