ট্রাম্পের 'নিউক্লিয়ার ডাস্ট' দাবি: ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কৌশল
ট্রাম্পের 'নিউক্লিয়ার ডাস্ট' দাবি: ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ

ট্রাম্পের 'নিউক্লিয়ার ডাস্ট' দাবি: ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কথিত 'নিউক্লিয়ার ডাস্ট' বা পারমাণবিক ধূলিকণা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা হ্রাসে ওয়াশিংটনের একটি বড় কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, 'নিউক্লিয়ার ডাস্ট' মূলত ইরানের সেই উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, যা গত বছরের জুনে তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার পর মাটির গভীরে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়।

সমঝোতা ও নিয়ন্ত্রণের দাবি

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এই ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। যদিও ইরান বা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, তবে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ইরানে আর কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সাথে কাজ করছে যাতে মাটির নিচে পুঁতে থাকা এই তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলো উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া যায়।

পারমাণবিক উপাদানের বিশ্লেষণ

পারমাণবিক তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের জুন মাসে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার আগে ইরানের কাছে ৪০০ কেজির বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ২০০ কেজি ২০ শতাংশ ফিসাইল উপাদান ছিল। এই পরিমাণ উপাদান খুব সহজেই ৯৯ শতাংশ অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, এই পারমাণবিক উপাদানগুলো মূলত ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে জমা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য

অন্যদিকে, ইরান সবসময় দাবি করে আসছে যে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উদ্দেশ্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২০৪১ সালের মধ্যে ২০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটি। তবে বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তিতে সন্দেহ পোষণ করছেন।

বর্তমানে ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক কেন্দ্র বুশেহর মাত্র ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ। জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ উমাদ শোকরি জানান, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুতের ওপর এই অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া কৌশলগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই তাদের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হয়, তবে এটি হবে দেশটির পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের ছাড়। তবে তেহরান যদি পুনরায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা বজায় রাখে, তবে এই সমঝোতার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাবে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তেহরানের মধ্যে এই পারমাণবিক অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা চললেও এর চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল বিরাজ করছে।

এই পরিস্থিতিতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের পারমাণবিক নিরাপত্তা বিন্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।