হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ছে
হরমুজ প্রণালি বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ছে

একদিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে প্রণালি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের স্বাগত জানানো এবং অবরোধের ঘোষণা

ইরানের এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘ইরান এইমাত্র ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং পূর্ণমাত্রায় চলাচলের জন্য প্রস্তুত। ধন্যবাদ!’ তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প জানান, একটি শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ‘সম্পূর্ণরূপে’ বলবৎ থাকবে।

আইআরজিসির বন্ধের ঘোষণা এবং হামলার ঘটনা

এখন ২৪ ঘণ্টা পর, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তারা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের কারণে প্রণালি বন্ধ রাখা হচ্ছে। আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কোনো জাহাজ নির্দেশ অমান্য করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই উত্তেজনার মধ্যে ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে দুটি জাহাজের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার একটি ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দাবি করেন, ইরানি গানবোট থেকে প্রথমে হামলা করা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের ‘বীর নৌবাহিনী শত্রুদের নতুন করে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাতে প্রস্তুত’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মতভেদ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ছাড়াও ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর ও অপসারণ এবং চলমান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বিস্তর মতভেদ রয়েছে। এদিকে আর মাত্র তিন দিন পর চলমান যুদ্ধবিরতির (দুই সপ্তাহ) মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা তিনি এখনই বলতে পারছেন না।

শুক্রবার তিনি বলেন, ‘হয়তো আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াব না, তাই এই অবরোধ থাকবে, আর দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমা হামলা শুরু করতে হবে।’ ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল মোহাম্মদ নাকদি গতকাল বলেন, ‘যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, আমরা এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করব, যেগুলোর উৎপাদন তারিখ ২০২৬ সালের মে মাস।’

আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ইরানি সূত্রগুলো সিএনএনকে বলেছে, আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রকাশ্যে তার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেনি। ২১ এপ্রিল (যুক্তরাষ্ট্র সময়) চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ হবে।

পরিকল্পনা প্রকাশ না করলেও পর্দার আড়ালে জোরেশোরে আলোচনা চলছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল দুপুরে ওয়াশিংটনে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এই দলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানও ছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত জলপথগুলোর একটি আবার খুলে যেতে পারে—অল্প সময়ের জন্য এমন আশা তৈরি হওয়ার পর এখন দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্ভাব্য আরেকটি বৈঠকে বসতে প্রস্তুত থাকা ছাড়া আর খুব কম বিষয়েই তারা একমত হতে পেরেছে।