ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের শনাক্তকরণ সংকেত লুকানোর প্রবণতা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ চলাকালীন হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে শনাক্তকরণ সংকেত লুকিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর প্রধান আমি ড্যানিয়েল নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমানে অনেক জাহাজ তাদের সংকেত বন্ধ করে দিচ্ছে অথবা এলোমেলো ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছে।
জাহাজগুলোর সংকেত পরিবর্তনের কারণ
ড্যানিয়েল আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, যুদ্ধের সময় আগে ইরানি জাহাজগুলোর রাডার ফাঁকি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু গত একদিনে অনেক জাহাজকে তাদের সংকেত পরিবর্তন করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলো এখন অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। সাধারণত বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করতে হয়, যার মাধ্যমে জাহাজের নাম, অবস্থান, গন্তব্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্প্রচারিত হয়। তবে এখন অনেক জাহাজ এই তথ্য গোপন বা বিকৃত করছে বলে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের পরিসংখ্যান
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে আসছে, তাদের নৌ অবরোধ ভেঙে কোনো জাহাজ ইরানের বন্দর বা উপকূল অতিক্রম করতে পারেনি এবং ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাহাজগুলোর সংকেত লুকানোর প্রবণতা আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সংকেত লুকানোর ঘটনা ঘটছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত, এবং এখানে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



