উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের তদারকিতে নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সম্পন্ন
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, দেশটি একটি নৌ-বিধ্বংসী জাহাজ (ডেস্ট্রয়ার) থেকে নতুন ধরনের কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষার তদারকি করেছেন দেশটির নেতা কিম জং-উন, যিনি জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষার সময় ও স্থান
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগুলো গত রোববার (১২ এপ্রিল) চালানো হয় এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের অংশ। পরীক্ষাগুলো 'কোরীয় পশ্চিম সাগর' বা পীত সাগরের আকাশে নির্ধারিত কক্ষপথ ধরে চালানো হয়, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন ও সময়কাল
কেসিএনএ জানায়, দুটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ৭ হাজার ৯০০ সেকেন্ডের বেশি, অর্থাৎ প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে উড়েছিল। অন্যদিকে, যুদ্ধজাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২ হাজার সেকেন্ড বা ৩৩ মিনিটের মতো উড়েছে। এই দীর্ঘ সময়কাল ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উন্নত প্রযুক্তি ও কার্যকারিতা নির্দেশ করে।
জাহাজ ও নেতার ভূমিকা
উত্তর কোরিয়ার নৌ-বহরে থাকা ৫ হাজার টনের দুটি শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ারের একটি 'চোয়ে হিয়ন' থেকে এই পরীক্ষাগুলো চালানো হয়। কিম জং-উন তার দেশের নৌ-ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গত বছর এই জাহাজ দুটি উদ্বোধন করেছিলেন। কেসিএনএ-র প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণের পর একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধোঁয়া ও লেলিহান শিখা ছড়িয়ে ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে, এবং অন্য একটি ছবিতে কিম জং-উন নৌ-কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দূর থেকে এই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতার বক্তব্য
বার্তা সংস্থাটি আরও জানায়, কিম জং-উনকে বর্তমানে নির্মাণাধীন আরও দুটি ডেস্ট্রয়ারের অস্ত্র সম্পর্কে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে' পৌঁছেছেন। কিম তার সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা শক্তিশালী করাই এখন উত্তর কোরিয়ার জন্য 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ'।
এই পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। নেতা কিম জং-উনের সরাসরি তদারকি ও অংশগ্রহণ এই উদ্যোগের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে, দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে।



