লেবানন-ইসরাইল সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও'র উপস্থিতি
লেবানন-ইসরাইল শান্তি আলোচনা, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত

লেবানন-ইসরাইল সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও'র সভাপতিত্ব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও'র উপস্থিতিতে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারি সূচিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আলোচনার সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারী

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদকে স্বাগত জানাবেন। এই বৈঠকটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই আলোচনার মাধ্যমে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি সংলাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে, যা কয়েক দশকের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে অন্যতম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনার মূল বিষয়বস্তু

আলোচনায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে:

  • যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিতকরণ ও বাস্তবায়ন
  • হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া
  • একটি বিস্তৃত ও টেকসই শান্তি চুক্তির রূপরেখা প্রণয়ন

এই আলোচনা শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বৈরুতে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী বিমান ও স্থল হামলা ক্রমাগত জোরদার করছে, যার ফলে মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় দশ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাখ্যান

এদিকে, হিজবুল্লাহ ওয়াশিংটনে প্রস্তাবিত এই শান্তি আলোচনা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সশস্ত্র সংগঠনটি এই আলোচনাকে 'অর্থহীন' আখ্যা দিয়ে লেবানন সরকারকে ইসরাইলি আগ্রাসন মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। হিজবুল্লাহর এই অবস্থান আলোচনার সম্ভাব্য সাফল্য সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরছে।

এই শান্তি আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু চলমান সংঘর্ষ ও হিজবুল্লাহর বিরোধিতার কারণে এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা কঠিন।