মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি মাত্র একদিনের মধ্যেই ইরানের পুরো জ্বালানি খাত সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
ইরানের জ্বালানি খাত ধ্বংসের ঘোষণা
ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ‘আমি একদিনেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারি… তাদের পুরো জ্বালানি খাত, প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সবকিছুই শেষ করে দিতে পারি।’ এই হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সতর্কবার্তা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত জাহাজের অবরোধকে সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান এই প্রণালি দিয়ে কোন জাহাজ চলাচল করবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তার মতে, ‘হয় প্রতিটি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করবে নতুবা একটিও নয়।’ এই অবস্থান ইরানের তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আরও কঠোর করার ইঙ্গিত বহন করে।
তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা
ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তার পছন্দের কোনো দেশের কাছে তেল বিক্রি করে অর্থ আয় করতে দেবে না। তিনি এটিকে ‘সব অথবা কিছুই না’ নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞা ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মতো হবে, তবে আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অবরোধের সম্ভাব্য প্রভাব
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অবরোধের ফলে আরও বেশি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে আসবে, যা বৈশ্বিক তেল বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। তার মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে এবং দেশটির জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এই হুমকি ইরান-মার্কিন উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



