ট্রাম্পের দাবি: ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস, আলোচনার মধ্যেই উত্তেজনাকর মন্তব্য
ট্রাম্পের দাবি: ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস

আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের ইরান-বিরোধী বক্তব্য, সামরিক ধ্বংসের দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে ইরান সামরিকভাবে ব্যাপকভাবে পরাজিত হচ্ছে এবং দেশটির অধিকাংশ সামরিক সক্ষমতা ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। এমনকি তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইরানের পুরোনো নেতারা আর জীবিত নেই এবং এ বিষয়ে ‘মহান আল্লাহর প্রশংসা’ করেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের পোস্টে ইরানের সামরিক অবস্থা নিয়ে দাবি

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার দীর্ঘ পোস্টে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘মিডিয়ায় দেখানো হচ্ছে ইরান জিতছে, কিন্তু তারা হারছে, অনেক বড়ভাবে হারছে।’ তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত দাবি তুলে ধরেছেন:

  • ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
  • বিমানবাহিনী কার্যত অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও কোনো অস্তিত্ব নেই বলে তার মন্তব্য।
  • রাডার ব্যবস্থা, মিসাইল ও ড্রোন কারখানা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামও ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

এছাড়া ট্রাম্প ইরানের ‘দীর্ঘদিনের নেতারা’ আর জীবিত নেই বলেও উল্লেখ করেছেন, যা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তার এই বক্তব্যে ধর্মীয় ভাষ্য ব্যবহার করা হয়েছে, বিশেষ করে ‘মহান আল্লাহর প্রশংসা’ অংশটি নিয়ে অনলাইনে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প তার পোস্টে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন যে বিশ্ব বাণিজ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এসব মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নাও হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান, তখন এই ধরনের বক্তব্য আলোচনার গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের এই পোস্টটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জটিলতা এবং সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার দিকে নতুন করে আলোকপাত করেছে।