ইরানের নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা: মুখমণ্ডল বিকৃত, পা গুরুতর জখম
ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পা গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এই আঘাত থেকে সেরে উঠতে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তার ঘনিষ্ঠজনের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামলার পরিণতি ও বর্তমান অবস্থা
সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। পাশাপাশি তার একটি পা বা উভয় পাই গুরুতর জখম হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঘনিষ্ঠজন বলেছেন, ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনি তার ক্ষত থেকে ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। তবে মানসিকভাবে তিনি এখনো তীক্ষ্ণ ও সক্রিয় রয়েছেন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মোজতবা খামেনি ইরানের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং প্রধান প্রধান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। এই ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি
- ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়
- অন্যান্য জরুরি রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলি
শান্তি আলোচনা ও শারীরিক অবস্থার প্রভাব
এদিকে আজ শনিবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রেক্ষাপটে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা কতটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার শারীরিক সীমাবদ্ধতা ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্যে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার সবচেয়ে বিশদ বর্ণনা পাওয়া গেছে। তবে রয়টার্স স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে তারা এসব ভাষ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
হামলার পটভূমি ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ অতর্কিত হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। সেই হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা খামেনি।
এরপর গত ৮ মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে সেইদিনের পর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেননি। তার কোনো ভিডিও, অডিও বা সাম্প্রতিক ছবিও প্রকাশ পায়নি, যা তার অবস্থা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়ন
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম দফার হামলায়ই মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার আহত হওয়ার বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি বিবৃতিতে বলেন, মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এবং সম্ভবত তিনি পঙ্গু হয়ে গেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে মোজতবা খামেনি একটি পা হারিয়েছেন।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এই নীরবতা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এই যৌথ হামলা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।



