পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হচ্ছে আজ শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে বসছে।
ইরানি প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ আগমন
ইরানের প্রতিনিধি দলটি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাসনিমের তথ্য মতে, এই দলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
পাকিস্তানি নেতাদের স্বাগত জানানো
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়
ইরানি প্রতিনিধি দল প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে শনিবার সকালে। তাসনিমের ইসলামাবাদে থাকা প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়, তাহলে শনিবার বিকেলে সেরেনা হোটেলে মূল আলোচনা শুরু হবে।
মার্কিন প্রতিনিধির অংশগ্রহণ
এদিকে, ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুস এয়ার ফোর্স বেস থেকে যাত্রার প্রাক্কালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কূটনৈতিক মিশন নিয়ে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনার প্রেক্ষাপট
এই শান্তি আলোচনা ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা এবং যুদ্ধবিরতি ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের সদিচ্ছা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাস নেই, যা আলোচনার জটিলতা নির্দেশ করে।
সেরেনা হোটেলে এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদের দিকে, যেখানে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নির্ভর করছে উভয় পক্ষের সমঝোতা ও শর্ত পূরণের ওপর।



