কুয়েতে ড্রোন হামলার অভিযোগ: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তায়
কুয়েতে ড্রোন হামলা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

কুয়েতে ড্রোন হামলার অভিযোগ: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তায়

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কুয়েতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের এই হামলার জন্য কুয়েত সরাসরি ইরান এবং তাদের সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে একযোগে বেশ কিছু ড্রোন কুয়েতের ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে’ লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও অস্বীকার

কুয়েতের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে কোনো হামলার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির এই সময়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি। বরং এই ঘটনার পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষের উসকানি থাকতে পারে বলে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে।

আইআরজিসি-র বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যদি কুয়েতে হামলার এই খবরগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরায়েল অথবা আমেরিকার কাজ। তেহরান মনে করছে, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চলমান যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যেই এই কৃত্রিম হামলার নাটক সাজানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুয়েতের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

তবে কুয়েত এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি এবং তারা এই হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলাকালীন এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে যখন ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে কুয়েতের মতো নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা দেশে হামলার ঘটনা অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই হামলার রহস্য দ্রুত উন্মোচিত না হয়, তবে দুই সপ্তাহের এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মাত্রা লাভ করতে পারে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।