ইরানের স্পিকার কলিবাফের কড়া হুঁশিয়ারি: ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে 'জীবন্ত নরকে' ঠেলে দিচ্ছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে এক 'জীবন্ত নরকের' দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে পুরো পশ্চিম এশিয়া 'ভস্মীভূত' হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া
রোববার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ইংরেজি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে কলিবাফ লেখেন, 'আপনার এই বেপরোয়া পদক্ষেপ প্রতিটি মার্কিন পরিবারের জন্য দেশটিকে এক জীবন্ত নরকে পরিণত করছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশ মানতে গিয়ে আপনি পুরো অঞ্চলকে আগুনের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।'
এর আগে সোমবারের মধ্যে ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্পের সেই হুমকির প্রেক্ষাপটেই এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন কলিবাফ।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে কয়েকশ জাহাজ কাছাকাছি এলাকায় নোঙর করে আছে এবং বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেক দেশ জ্বালানি রেশনিং ও কৃচ্ছ্রসাধনের পথ বেছে নিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই জলপথ আমেরিকা, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের জন্য বন্ধ থাকবে।
কলিবাফের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
কলিবাফ তার পোস্টে আরও যোগ করেন, 'ভুল করবেন না; যুদ্ধাপরাধ করে আপনারা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। একমাত্র সমাধান হলো ইরানি জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং এই বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করা।'
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ হরমুজ প্রণালীর বন্ধ থাকা বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।



