ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানে নিখোঁজ ক্রু সদস্য উদ্ধার
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, উদ্ধার অভিযানে নিখোঁজ ক্রু উদ্ধার

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানে নিখোঁজ ক্রু সদস্য উদ্ধার

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে এক দুঃসাহসিক অভিযানে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘আমরা তাকে পেয়েছি’। ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আগেই এই উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়, যা মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভূপাতিত বিমান ও ক্রু সদস্যদের অবস্থা

শুক্রবার একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ওই বিমানে থাকা দুজন সদস্যের একজন পাইলট সেদিনই উদ্ধার হয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় সদস্য, যিনি একজন অস্ত্র কর্মকর্তা, নিখোঁজ ছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্ধার অভিযানটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল, কারণ এটি বৈরী পাহাড়ি এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল। কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা এখন ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘোষণা ও অভিযানের বিবরণ

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় আমেরিকানরা, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিহাসের অন্যতম সাহসী তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আমাদের অবিশ্বাস্য এক সেনাকে ফিরিয়ে এনেছে।’ তিনি দাবি করেন, নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারে ডজনখানেক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল এবং কোনও আমেরিকান নিহত বা আহত না হওয়া প্রমাণ করে যে ইরানি আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিকূলতা ও ইরানের দাবি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযানটি নিখুঁত দাবি করলেও বাস্তবে বেশ কিছু প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছিল মার্কিন বাহিনীকে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত দুটি পরিবহন বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে যায়। সেগুলো যাতে শত্রুর হাতে না পড়ে, সেজন্য মার্কিন কমান্ডোরাই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিমানগুলো ধ্বংস করে দেয়। পরে অতিরিক্ত তিনটি বিমান পাঠিয়ে উদ্ধারকারী দল ও আহত সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। তেহরানের দাবি, তারা একটি মার্কিন পরিবহন বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। তবে আঞ্চলিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তাদের বিমান ধ্বংস করেছে।

ক্রু সদস্যের বেঁচে থাকার কাহিনী

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অস্ত্র কর্মকর্তা নিজেকে বাঁচাতে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে টিকে ছিলেন। ধরা পড়া এড়াতে আহত অবস্থায় তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট (২.১ কিলোমিটার) উঁচুতে পাহাড়ে উঠে গিয়েছিলেন। তার কাছে সংকেত পাঠানোর যন্ত্র (বিকন) থাকলেও ইরানিরা তার অবস্থান শনাক্ত করে ফেলতে পারে, এই ভয়ে তিনি সেটি সীমিতভাবে ব্যবহার করেন। তেহরান তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল।

বিতর্ক ও আহতের খবর

অভিযানে কোনও সেনা আহত হননি বলে ট্রাম্প দাবি করলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারে ইরানি বাহিনী গুলি চালালে কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। অ্যাক্সিওস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবারের অভিযানেও একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে ইরানি হামলায় ক্রু সদস্যরা আহত হয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযানে ইসরায়েল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত ওই সেনাকে চিকিৎসার জন্য কুয়েতে পাঠানো হয়েছে। ১ মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানকে অস্থিতিশীল করা এবং তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে। এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।