ইরানের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি
ইরানের আকাশসীমায় গত শুক্রবার মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় তেহরান নিজেদের তৈরি একটি নতুন ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের দাবি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের খতাম আল-আম্বিয়া জয়েন্ট মিলিটারি কমান্ড ঘোষণা করেছে যে খুব শিগগির তারা নিজেদের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে।
মিলিটারি কমান্ডের মুখপাত্রের বক্তব্য
মিলিটারি কমান্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, "শত্রুদের জেনে রাখা উচিত যে এই দেশের গর্বিত ও তরুণ বিজ্ঞানীদের তৈরি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা আমাদের আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হাসিল করব। একের পর এক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে আমরা বিশ্বের সামনে শত্রুদের পরাজয় ও অবমাননাকে আগের চেয়ে বেশি স্পষ্ট করে প্রমাণ করব।"
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
শুক্রবার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিশানায় পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফটকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ওই বিমানের একমাত্র পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এনবিসি নিউজ এক অজ্ঞাতনামা মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুটি হেলিকপ্টারও ইরানি বাহিনীর হামলার মুখে পড়েছিল। তবে সেগুলোতে থাকা ক্রু সদস্যরা অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে। এ-১০ মূলত একটি একক আসনবিশিষ্ট যুদ্ধবিমান, যা স্থল বাহিনীকে আকাশ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ইরানি দ্বীপগুলো দখল করার জন্য কোনও স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানকে দেওয়া সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে আসছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি এক পোস্টে লিখেছেন, "মনে আছে, আমি ইরানকে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে, আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপর তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।"
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরানের নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



