ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধার: ট্রাম্পের ঘোষণায় সাহসী অভিযানের বর্ণনা
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে, যিনি গত দুইদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন, রোববার (৫ এপ্রিল) উদ্ধার করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা বিবিসি ও আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদিত হয়েছে।
পাইলটের অবস্থা ও ট্রাম্পের বিবৃতি
ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মার্কিন বিমানসেনা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন, যদিও তিনি কিছুটা আহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযানকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক ঘণ্টায় এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং পাইলট বেঁচে আছেন।
অভিযানের পটভূমি ও তল্লাশি কার্যক্রম
গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় গুলিতে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে দুই বিমানসেনা নিখোঁজ হন। মার্কিন বাহিনী বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করে, যার প্রথমদিকেই একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে দ্বিতীয় সেনাকে উদ্ধারে জোর তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অন্যদিকে, ইরানও নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে ধরার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে।
সামরিক অভিযানের বিস্তারিত
ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত’ ডজনখানেক বিমান পাঠিয়েছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর শত শত সেনা অংশ নেয় এবং নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে তারা ইরানি ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে তাকে নিরাপদে নিয়ে আসে।
এই অভিযানটি নাটকীয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা রাতে শুরু হয়ে দিনের আলোতে শেষ হয়। আল জাজিরা দাবি করে যে, পরিকল্পনা মাফিক পুরোপুরি এই অভিযান চলেনি। অভিযানে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে:
- এইচএইচ-৬০ডব্লিউ 'জলি গ্রিন ২' রেসকিউ হেলিকপ্টার
- এ-১০ ‘ওয়ারথগ’ বিমান
- এইচসি-১৩০ রেসকিউ মিড-এয়ার ট্যাংকার
- এফ-৩৫ স্টেলথ জেট
এ ছাড়া, দেশটির স্পেশাল ফোর্স, একটি কমব্যাট সার্চ এবং রেসকিউ স্পেশাল ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয়।



