ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা জোরদার, জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'প্রস্তুর যুগে পাঠানোর' হুমকি দেওয়ার পর দেশটিতে যৌথ হামলা জোরদার হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে শতাব্দী পুরোনো একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র, একটি সেতু এবং দুটি বৃহত্তম ইস্পাত কারখানায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
বিভিন্ন অঞ্চলে হামলার বিস্তার
ইরানের ইস্পাহান নগরীর ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছ থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে বিমান হামলায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের দৃশ্য ধরা পড়েছে। তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত কারাজ শহরেও ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্র ইরান থেকে বিবিসিকে এ খবর নিশ্চিত করেছে।
তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, তার বাসার ওপর দিয়ে জঙ্গিবিমান উড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা গেছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমও আল বোরজ প্রদেশের কারাজ শহরে হামলার খবর প্রকাশ করেছে। আলবোরজ প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক উপ-কর্মকর্তা বলেছেন, কারাজের কাছে একটি সেতুতে বিমান হামলায় ২ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও কয়েকজন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের জরুরি আহ্বান
ওদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই আহ্বান জানান। গুতেরেস বলেন, 'আমরা একটি বড় পরিসরের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যে যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকেই গ্রাস করবে এবং বিশ্বজুড়ে নাটকীয় প্রভাব ফেলবে।'
তিনি তেল এবং খাবারের বাড়তে থাকা দামের কথা উল্লেখ করে বলেন, মানুষ এরই মধ্যে বাড়তি দামের সঙ্গে সংগ্রাম করছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্বের গরিব এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের হাঁসফাস অবস্থা হবে। গুতেরেস বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনাকে সম্মান দেখানো এবং সুরক্ষিত রাখা উচিত।
গুতেরেস আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের কাছে আমার বার্তা স্পষ্ট: পরিস্থিতি এরই মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ এবং বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক পরিণতি দিকে যেতে বসেছে। যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই সময়।' এই সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।



