ট্রাম্পের হুমকি: ইউরোপের সহায়তা না পেলে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ
ট্রাম্পের হুমকি: ইউক্রেনে অস্ত্র বন্ধের শর্ত

ট্রাম্পের চরম হুমকি: ইউরোপের সহায়তা না পেলে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সরাসরি মিত্রদের পাশে না পেয়ে এবার ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী পুনর্দখল ও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ইউরোপীয় দেশগুলো সহায়তা না করলে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই উন্মত্ত কূটনৈতিক অবস্থানের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ইউরোপের গড়িমসিতে ট্রাম্পের ক্ষোভ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী রক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলোর গড়িমসিতে ট্রাম্প ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা উদ্যোগ পিইউআরএল-এ যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো অস্ত্র বা সরঞ্জাম দেবে না। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের মধ্যস্থতায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি গত ১৯ মার্চ এক যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই কৌশলকে ব্ল্যাকমেইল ডিপ্লোমাসি হিসেবে অভিহিত করছেন।

রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলা ও লুহানস্ক দাবি

এদিকে, কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইউক্রেনের ওপর গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৭০০টি ড্রোন নিয়ে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৬০টির বেশি ড্রোন এবং রাতভর আরও ৩৩৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় চেরকাসি এলাকায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ইউক্রেন দাবি করেছে তারা সিংহভাগ ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে ১৪টি ড্রোন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ক্রেমলিনের দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে তাদের নাগালের বাইরে থাকা ক্ষুদ্র ভূখণ্ডটিও এখন রুশ সেনাদের দখলে। তবে এই দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার। তাদের মতে, রণক্ষেত্রে অতি সামান্য পরিবর্তনকে বড় বিজয় হিসেবে প্রচার করে রুশ বাহিনী আসলে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নিতে চাইছে। মূলত লুহানস্কের ৯৯ শতাংশ আগে থেকেই রাশিয়ার দখলে ছিল।

আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাব

এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে:

  • ট্রাম্পের হুমকি ন্যাটো জোটে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
  • রাশিয়ার ড্রোন হামলা ইউক্রেনের অবকাঠামো ও নাগরিকদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • লুহানস্ক দাবি যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক দিককে সামনে এনেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক চাপ এবং রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রম বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর এখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে: হয় হরমুজ প্রণালীতে সহায়তা করতে হবে, নয়তো ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।