ইরানে চলমান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির কমপক্ষে ১২০টি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান সিটি কাউন্সিলের ঐতিহ্য কমিটির প্রধান আহমেদ আলাভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রদেশের জাদুঘর, ঐতিহাসিক ভবন ও সাংস্কৃতিক স্থান সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং সেগুলো গুরুতর কাঠামোগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত স্থানগুলোর ক্ষতি
আলাভি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত গোলেস্তান প্রাসাদ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রাসাদটিকে কখনো কখনো ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এছাড়াও তেহরানের মার্বেল প্রাসাদ, তৈমুরতাশ হাউস ও সাদাবাদ প্রাসাদের নামও তিনি উল্লেখ করেছেন।
সাদাবাদ প্রাসাদ কমপ্লেক্সের গুরুত্ব
রাজধানী তেহরানের সর্বাধিক পরিদর্শনকৃত স্থানগুলোর মধ্যে সাদাবাদ প্রাসাদ কমপ্লেক্স অন্যতম। এই কমপ্লেক্সে একটি বিস্তৃত পার্ক ও ইরানের ইতিহাসের নিবেদিত জাদুঘর রয়েছে। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এখানে ইরানের রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও তেহরান প্রদেশের গভর্নরের আবাসস্থল অবস্থিত। এর নিকটেই বিচার বিভাগীয় ও রেভোলিউশনারি গার্ডসের সুবিধাগুলো অবস্থান করছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান শুরু করে, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন এবং একটি যুদ্ধের সূচনা হয়। এই যুদ্ধ পরবর্তীতে কার্যত সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে জড়িয়ে ফেলে। কয়েক সহস্রাব্দের ইতিহাসসমৃদ্ধ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মূলত ব্যাপক পর্যটন থেকে রক্ষিত ছিল।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ইরানের ২৯টি ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত স্থানের মধ্যে কমপক্ষে চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো গোলেস্তান প্রাসাদ, ইসফাহানের চেহেল সোতুন প্রাসাদ, একই শহরের মাসজেদ-এ জামে মসজিদ এবং খোররামাবাদ উপত্যকার প্রাগৈতিহাসিক স্থানগুলো। এই ক্ষয়ক্ষতি ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আলাভি আরও উল্লেখ করেছেন, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলোর এই ক্ষতি কেবল ইরানের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সাংস্কৃতিক সম্পদের সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।



