মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হাজার হাজার নৌসেনা মোতায়েন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হাজার হাজার নৌসেনা মোতায়েন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার নৌসেনা (মেরিন) ও নাবিক মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান, ইরানে সরাসরি স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের রওনা ও সামরিক উপস্থিতি জোরদার

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উভচর হামলাকারী জাহাজ ইউএসএস বক্সার-এর মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর ফলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে যদি পাঠাতামও, তা সাংবাদিকদের জানাতাম না।”

সূত্রগুলো জানায়, নতুন করে পাঠানো সেনাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনো নির্ধারিত হয়নি। একজন কর্মকর্তা জানান, এই বাহিনী নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। নতুন বাহিনী যুক্ত হলে সেখানে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে দুইটিতে দাঁড়াবে। সাধারণত প্রতিটি ইউনিটে প্রায় আড়াই হাজার সদস্য থাকে, যারা সমুদ্র থেকে বিমান হামলা বা স্থল অভিযানে দক্ষ বলে বিবেচিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেন্টাগনের পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

এর আগে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সামরিক বিকল্প প্রস্তুত করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরানের উপকূলে বাহিনী মোতায়েন এবং খারগ দ্বীপ-এ সেনা পাঠানোর পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান শুরু করা হলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশ এ ধরনের যুদ্ধে সমর্থন দিচ্ছে না।

রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প ইরানে বড় পরিসরের স্থল যুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে এর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানটি ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কিন জনগণের মধ্যে ইরান সংঘাত নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনাস্থা বিরাজ করছে। সামরিক পদক্ষেপের ফলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক মোতায়েন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেয়ে বাড়ানোরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও সরাসরি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা চলছে, তবুও প্রস্তুতি ও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির এই সম্প্রসারণ ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।