শ্রীলঙ্কার আদালতের নির্দেশ: দেনা ফ্রিগেটের নিহত নাবিকদের লাশ ইরানি দূতাবাসে হস্তান্তর
শ্রীলঙ্কার একটি আদালত ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ থেকে উদ্ধার করা ৮৪ নাবিকের মরদেহ ইরানি দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় এই ফ্রিগেটটি ডুবে যায়, যাতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় নাবিকদের মৃত্যু ও উদ্ধার অভিযান
ইরানের সামরিক বাহিনীর ওয়েবসাইট মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেনা জাহাজে নিহত ১০৪ জন নাবিকের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো শীঘ্রই ইরানে ফেরত পাঠানো হবে। শ্রীলঙ্কা হামলার সময় জাহাজটির ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ডুবুরিরা চেষ্টা করেও বাকি ২০ নাবিকের কোনো হদিস পায়নি, যা এই ঘটনার মর্মান্তিক দিক তুলে ধরছে।
মহড়ায় অংশগ্রহণ ও প্রতিরক্ষাহীন অবস্থা
ইরানে যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ফেব্রুয়ারিতে দেনা ফ্রিগেট ভারতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মহড়া ‘গ্লোবাল ফ্লিট রিভিউ ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছিল। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব কানওয়াল সিবাল এক্সে লিখেছেন, “আমরা যদি তাদেরকে সামরিক মহড়ায় আমন্ত্রণ না জানাতাম, তাহলে হয়তো এমনটি ঘটত না। আমরা ছিলাম স্বাগতিক। মহড়ার নিয়ম অনুযায়ী জাহাজগুলোতে কোনো গোলাবারুদ রাখা যেত না, ফলে জাহাজটি ছিল প্রতিরক্ষাহীন।” এই মন্তব্য ঘটনার পটভূমি বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে গভীরভাবে অনুতপ্ত হতে হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। আদালতের এই নির্দেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবিক দিক বিবেচনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
এই ঘটনা শুধু একটি সামরিক হামলা নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা চুক্তি এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়াতে বৈশ্বিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা underscored হচ্ছে।



