ইরানের বিদ্যালয় হামলায় মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা তদন্তে: প্রাথমিক ইঙ্গিত
ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে গত শনিবার সংঘটিত রক্তক্ষয়ী হামলার পেছনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক তদন্তকারীরা। এই হামলায় দেড় শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের প্রাথমিক তথ্য ও সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও তদন্তকারীরা এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি, তবে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। সংবেদনশীল সামরিক বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, নতুন কোনও তথ্য সামনে এলে দায়বদ্ধতার এই চিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও তারা নাকচ করছেন না। পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ গত বুধবার স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য, যেমন-কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, কোন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়েছে কিংবা কেন এই হামলা চালানো হলো, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।
হামলার পরিণতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
গত মঙ্গলবার ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত ছাত্রীদের গণজানাজার দৃশ্য প্রচার করা হয়। সারিবদ্ধভাবে রাখা ছোট ছোট কফিনগুলো ইরানি পতাকায় ঢাকা ছিল এবং একটি ট্রাকের ওপর দিয়ে বিপুল জনতার ভিড় ঠেলে সেগুলোকে সমাধিস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। শোকাতুর মানুষের ভিড় আর শিশুদের কফিন দেখে পুরো ইরানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও বিদ্যালয়, হাসপাতাল বা অন্য কোনও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো একটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বেসামরিক প্রাণহানির সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি, যা বৈশ্বিক নিন্দা ও আইনি পরিণতি ডেকে আনতে পারে।



